ত্রিপুরায় বন্যার কারণে ১৯ জনের মৃত্যু, অবিরাম বৃষ্টিতে ধসের আশঙ্কা, বিপদসীমার উপরে একাধিক নদী, ঘরছাড়া বহু মানুষ

গত চারদিন ধরে ত্রিপুরায় প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে রাজ্যের একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপরে উঠে গেছে। ফলস্বরূপ, বহু বিঘা চাষের জমি তলিয়ে গেছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, বৃষ্টির ফলে ধসের ঘটনায় দুই পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু ছিল। এ অবস্থায় বৃষ্টির পরিমাণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যের আটটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ; ধলাই, খোয়াই, দক্ষিণ ত্রিপুরা, পশ্চিম ত্রিপুরা, উত্তর ত্রিপুরা এবং উনকোটির নদীগুলি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, ফলে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বন্যার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং বায়ুসেনা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। সেনার হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সহায়তা প্রদান করছে। আগরতলায় আরও বাহিনী পৌঁছেছে।

ত্রিপুরার গোমতি জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ ত্রিপুরা এবং উনকোটিতেও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৫০টিরও বেশি ত্রাণশিবির গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৬৫,৪০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বৃষ্টির কারণে বার বার ধসের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ট্রেন পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। একাধিক জেলায় টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে যে শুক্রবারও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং শনিবার পর্যন্ত লাল সতর্কতা বলবৎ থাকবে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণভাবে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।